মোহাম্মদ আদনান মামুন, নিজস্ব প্রতিবেদক-
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ধনুয়া-সাতানি হাটের খাজনা রমজান উপলক্ষ্যে মওকুফ করেছে ওই হাটের ইজারাদার সাদ্দাম হোসেন অনন্ত। তিনি উপজেলার নগরহাওলা গ্রামের মৃত বেলাল উদ্দিনের সন্তান।

হাটের দোকানদার লাল মিয়া বলেন, চার পাঁচ বিঘার কৃষি পণ্য এ হাটসহ আশপাশে কয়েকটি হাটে বিক্রি করি। সপ্তাহে দুই দিন শনিবার ও মঙ্গলবার সাতানি-ধনুয়া হাটে প্রায় হাজার খানেক কৃষক তাদের পণ্য বিক্রি করতে আসেন। অন্য হাটের খাজনা রমজান মাসে দ্বিগুণ করেন, আর ধনুয়া হাটের ইজারাদার খাজনা মওকুফ করেছেন, এটা অবশ্যই একটা প্রশংসণীয় উদ্যোগ।

কলা বিক্রেতা শফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রামের বিভিন্ন বাড়ি ঘুরে গৃরস্থের গাছ থেকে কলা সংগ্রহ করে এ হাটে বিক্রি করি। কলা বিক্রির সামান্য লাভ থেকে প্রতিহাটে ২০/৩০টাকা ইজারাতেই চলে যেতো। লকডাউনে হাটে ক্রেতা নেই, তাই বেচাবিক্রি কম হচ্ছে। রমজানে ইজারাদার খাজনা মওকুফ করায় কিছুটা আশার সঞ্চার হয়েছে।

ইজারাদার সাদ্দাম হোসেন অনন্ত বলেন, কয়েকশ বছরের ঐতিহ্য রয়েছে এই হাটের। গ্রামের কৃষকরাই যেমন এই হাটে প্রাণ তেমনই কৃষকই দেশের মূল চালিকা শক্তি। আশপাশের কয়েকটি গ্রামের কৃষক তাঁর উৎপাদিত কৃষি পণ্য বিক্রি করতে আসেন এই হাটে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে দেশব্যাপী লকডাউন থাকায় কৃষক তার উৎপাদিত কৃষি পণ্যের সঠিক মূল্য পাচ্ছেন না। এতে কৃষকরা যেমন ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে তেমনি কৃষিকাজে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। কৃষি কাজে কৃষকদের আস্থা ধরে রাখতে পুরো রমজান মাস জুড়েই হাটের ইজারা মওকুফ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমার এই সামান্য উদ্যোগে যদি কৃষক উৎসাহী হয় তাহলেই সার্থক হবো।

উল্লেখ্য, সাদ্দাম হোসেন অনন্ত নিজের খরচে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের বেলদিয়া গ্রামে ৭০বছর বয়সী আছিয়া বেগমকে হজ্জ্ব পাঠিয়ে তাঁর স্বপ্ন পূরণ করিয়ে ব্যাপক আলোচনায় আসেন। এছাড়াও নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌরসভার শৈলাডহর গ্রামের প্রতিবন্ধী জাকির হোসেনকে একটি পাকা বাড়ি নির্মাণসহ শ্রীপুরে অসহায় দুস্থদের থাকার ঘর নির্মাণ করাসহ মানবতার কাজে সবসময়ই এগিয়ে আসেন।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *