স্বাধীন কন্ঠ নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ

 যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা গৃহবধূকে অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে এবং কুপিয়ে রক্তাত জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২০ অক্টোবর ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার প্রহলাদপুর ইউনিয়নের ডুমনী গ্রামে। নির্যাতনের শিকার দুই সন্তানের জননী গৃহবধূ রাবিয়া খাতুন বাদী হয়ে স্বামী রমজান আলী(২৮) সহ ছয় জনের নামে শ্রীপুর থানায় মামলা করেছে। আসামীরা কেউ গ্রেফতার না হওয়ায় হতাশ গৃহবধূর পরিবার। মামলা সুত্রে জানা যায়, গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার পটকা গ্রামের ফজলুল হকের মেয়ে রাবিয়ার বিয়ে হয় একই উপজেলার ডুমনী গ্রামের আমান উল্লাহর পুত্র রমজান আলীর সঙ্গে। পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই রমজান আলী ও তার পরিবারের লোকজন রাবিয়া খাতুনের কাছে যৌতুক দাবি করে আসছিলো। বিভিন্ন সময় তাকে শারীরিক নির্যাতন করতো। নির্যাতনের শিকার রাবিয়া খাতুন জানান, দুই সন্তান নিয়ে আমি এখন বাবার বাড়িতে আছি। এর আগেও রমজান দুইটি বিয়ে করেছিল। সে প্রায়ই টাকার জন্য মারধর করতো এবং পরিবারের সদস্যরা তাকে সহায়তা করে। বিয়ের পর আমার বাবা সুখের জন্য সাড়ে তিন লাখ টাকার আসবাবপত্র ও স্বর্ণালংকার দিয়েছে। শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ খোন্দকার ইমাম হোসেন বলেন, যৌতুকের দাবীতে মারপিট ও কুপিয়ে গুরুতর জখম এবং সহায়তার অভিযোগে নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ মোসা: রাবিয়া খাতুন বাদী হয়ে স্বামী রমজান আলী সহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। গৃহবধূ রাবিয়া খাতুনের বাবা ফজলুল হক দাবি করেন, ছয় বছর আগে তাঁর মেয়ের সঙ্গে একই উপজেলার ডুমনী গ্রামের আমান উল্লাহর ছেলে রমজান আলীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর ব্যবসার জন্য চার লাখ টাকা দেয়া হয়। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে এর আগেও সাড়ে তিন লাখ টাকার আসবারপত্র ও সোনার গয়না দেওয়া হয়। কিছুদিন পরপর স্বামী ও পরিবারের লোকজন যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন অব্যাহত রাখে। টাকা দিতে না পারায় গত ২০ অক্টোবর রাবিয়া খাতুনকে কুপিয়ে মাথা, হাত-পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত কাটা জখম করে ফেলে রাখেন। খবর পেয়ে মেয়ের স্বামী রমজানের বাড়ি গিয়ে আহত রাবিয়াকে উদ্ধার করে শহীদ তাজঊদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করাই। শহীদ তাজঊদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, ওই নারীর মাথা ও দেহের বিভিন্ন স্থানে দাঁড়ালো অস্ত্রের কাটা দাগ ও মারধরের চিহ্ন রয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো: হারুন মিয়া বলেন, মামলার আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *